“ট্রাম্প প্রশাসন ডিম আমদানি করবে”

যুক্তরাষ্ট্রে ডিমের দাম সর্বকালের সবচেয়ে বেশি বেড়েছে, কমানোর জন্য তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আমদানির পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রে ডিমের দাম একেবারে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায়, ট্রাম্প প্রশাসন তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ডিম আমদানি করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। খবরটি বিবিসি প্রকাশ করেছে।

হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিসচিব ব্রুক রোলিন্স সাংবাদিকদের বলেন, “স্বল্প মেয়াদে আমরা শত শত মিলিয়ন ডিম আমদানি করার পরিকল্পনা করছি। বার্ড ফ্লু মহামারির কারণে কৃষকদের লাখ লাখ মুরগি জবাই করতে হয়েছিল।” সংকট কাটাতে মার্কিন প্রশাসন ১০০ কোটি ডলারের একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, এবং এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে যখন ডিমের দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে।

২০২৪ সালের নির্বাচনে জেতার জন্য ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাবেন। তবে গত এক বছরে ডিমের দাম ৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং ২০২৫ সালের মধ্যে এই দাম আরও ৪১ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রোলিন্স আরও বলেন, “আমরা অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করছি, যাতে বাজারে ডিমের সরবরাহ বৃদ্ধি করা যায়। তবে, কোন দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে, তা তিনি উল্লেখ করেননি।” তিনি আরও যোগ করেন, “যখন আমাদের মুরগির সংখ্যা পুনরায় বৃদ্ধি পাবে এবং ডিম উৎপাদন আগের মতো ফিরে আসবে, তখন আমরা আমাদের অভ্যন্তরীণ ডিম উৎপাদনের দিকে ফিরে যাব এবং ডিম বাজারে সহজলভ্য হবে।”

এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার মার্কিন দূতাবাস পোল্যান্ড ও লিথুনিয়ার পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ডিম আমদানির বিষয়ে। পোল্যান্ডের পোলট্রি ও ফিড প্রযোজক চেম্বারের পরিচালক কাটারজিনা গাভরোন্সকা এএফপিকে জানান, “ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন দূতাবাস আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিল, পোল্যান্ড কি মার্কিন বাজারে ডিম রপ্তানি করতে আগ্রহী?”

এছাড়া, ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ একটি ১০০ কোটি ডলারের পাঁচ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যাতে ৫০ কোটি ডলার বায়োসিকিউরিটির জন্য, ১০ কোটি ডলার ভ্যাকসিন গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য এবং ৪০ কোটি ডলার কৃষকদের আর্থিক সহায়তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া, খামারগুলিকে বিনামূল্যে পরামর্শ, বার্ড ফ্লু প্রতিরোধ এবং ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ প্রদান করা হবে।

এই মাসের শুরুতে, মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেছেন, ডিমের উচ্চ মূল্যের জন্য তার পূর্বসূরি জো বাইডেনকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “জো বাইডেনের পদক্ষেপ ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। দাম কমানোর জন্য আমরা এখন কঠোর পরিশ্রম করছি।”

বাইডেন প্রশাসন গত বছর বার্ড ফ্লু প্রাদুর্ভাবের কারণে লাখ লাখ ডিম উৎপাদনকারী মুরগি মারার নির্দেশ দিয়েছিল, যা পরবর্তীতে ডিমের দাম বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *