বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত চীন। দেশটির শিল্প-কারখানা এবং ভোক্তা চাহিদা পূরণের জন্য প্রতিবছর রাশিয়া ও আরব দেশগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানি করতে হয়। তবে এবার চীনের বিজ্ঞানীরা দেশটিকে একটি সুখবর দিয়েছেন।
চীনে এমন একটি জ্বালানি উৎস আবিষ্কৃত হয়েছে, যা দিয়ে পুরো চীনের ৬০ হাজার বছরের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। এই তথ্য দিয়েছেন চীনের ভূতত্ত্ববিদরা।
ডেইলি মেইল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চীনের ইনার মঙ্গোলিয়ার বায়ান ওবো খনিজ কমপ্লেক্সে পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ থোরিয়াম, যা একসময় চীনের প্রতিটি বাড়ির বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের জন্য যথেষ্ট হবে। থোরিয়াম এমন একটি হালকা তেজষ্ক্রিয় পদার্থ, যা পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। এটি ব্যবহার করা হবে মল্টেন-সল্ড রিঅ্যাক্টর নামক প্রযুক্তিতে, যা থেকে অগণিত পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ওই খনিতে থোরিয়ামের পরিমাণ ১০ লাখ টন পর্যন্ত হতে পারে। এর মাধ্যমে চীনের বিদ্যুৎ চাহিদা ৬০ হাজার বছর পর্যন্ত পূরণ সম্ভব। এমনকি এই খনির থোরিয়াম যদি পুরোপুরি উত্তোলন করা যায়, তবে তা সারা বিশ্বের জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বন্ধ করতে পারে। গবেষণায় আরও দাবি করা হয়েছে যে, ইনার মঙ্গোলিয়ার একটি লোহার আকরিক খনির বর্জ্য থেকে পাওয়া থোরিয়াম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ১,০০০ বছরের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
এ তথ্যটি প্রকাশিত হয়েছে এমন একটি সময়ে, যখন চীন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য শক্তিশালী জ্বালানি উৎসের সন্ধান করছে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, চীনের ২৩৩টি থোরিয়াম সমৃদ্ধ অঞ্চলের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব অঞ্চলের থোরিয়ামের পরিমাণ পূর্ববর্তী হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। প্রচলিত পারমাণবিক চুল্লিতে ইউরেনিয়াম-২৩২ ব্যবহৃত হয়, যেখানে থোরিয়ামের পরিমাণ অন্তত ৫০০ গুণ বেশি পাওয়া গেছে।
পারমাণবিক চুল্লি তেজষ্ক্রিয় পদার্থ ফিশন বা বিগলন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপন্ন করে। থোরিয়াম সাধারণত বিগলনযোগ্য নয়, তবে এটি ফিশন বিক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়, কারণ থোরিয়াম “উর্বর”। এর মানে হল, নিউট্রনের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটলে থোরিয়াম ইউরেনিয়াম-২৩৩-এ পরিণত হতে পারে।
মল্টেন-সল্ড রিঅ্যাক্টরে থোরিয়াম লিথিয়াম ফ্লোরাইডের সঙ্গে মিশিয়ে ১৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উত্তপ্ত করা হয়। এর ফলে নিউট্রনের সঙ্গে সংঘর্ষে কিছু থোরিয়াম ইউরেনিয়াম-২৩২-এ পরিণত হয়, যা ফিশন বিক্রিয়া শুরু করে এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়। এই শক্তি ব্যবহৃত হয় স্টিম টার্বাইন চালানোর জন্য, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়ক।
এই আবিষ্কার চীনকে একটি বিপ্লবী শক্তির উৎসের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।

আমরা চাই আমাদের দেশে যেন বিদ্যুতের অভাব না হয়। কিন্তু আমাদের অনেক কাজ করতে হবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইলে। ইনশাল্লাহ আমরা কাজ করতে পারবো। কিন্তু আমরা চিনদের সাথে যুক্ত হতে পারবো কি।