ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা আজ রোববার সকাল ১০টায় বিভাগের অফিসে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। তাদের এই প্রতিবাদী কর্মসূচির কারণ, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ফল প্রকাশে দেরি হওয়া এবং তার প্রভাব হিসেবে আবাসিক হলে আসন বরাদ্দ না পাওয়া। ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণে শিক্ষার্থীরা তিন দিন ধরে বিভাগ, হল দপ্তর ও প্রশাসনিক ভবনে ঘুরে সমস্যার সমাধান না পাওয়ায় এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, প্রথম সেমিস্টারের পরীক্ষার ফল প্রায় ১১ মাস পর প্রকাশিত হয়। তবে ফল প্রকাশের আগে হলে আসন বরাদ্দের জন্য তারা নম্বরপত্র জমা দিতে না পারায় কোনো শিক্ষার্থীই আসন পাননি। এর পরিপ্রেক্ষিতে, বিভাগ ও হল দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি, ফলে তারা বিভাগের অফিসে তালা লাগিয়ে আটটি দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন।
তাদের আটটি দাবি ছিল— ১. বিভাগকে হলের সিটের দায়িত্ব নিতে হবে এবং সিট বরাদ্দ করতে হবে।
২. বিভাগকে সেশনজটমুক্ত করতে হবে।
৩. সেমিস্টার পরীক্ষার ফল তিন মাসের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে।
৪. ইনকোর্স নম্বর সেমিস্টারের কমপক্ষে সাত দিন আগে প্রকাশ করতে হবে।
৫. রুটিন অনুযায়ী ক্লাস নিতে হবে।
৬. বিভাগকে মাদকমুক্ত রাখতে হবে।
৭. আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সিলেবাস দেওয়া হবে।
৮. নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা হচ্ছে কিনা, তা তদারকি করতে হবে।
একজন শিক্ষার্থী ইনজামুল হক বলেন, “ফলাফল বিলম্বের কারণে আমরা আমাদের হলের আসন পাইনি। তিন দিন ধরে প্রশাসন ও বিভাগে ঘুরেছি, কিন্তু সমাধান পাচ্ছি না।” অন্য একজন শিক্ষার্থী নাইমুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতার কোনো জবাবদিহি নেই। সেশনজট, ফলাফল প্রকাশে দেরি এবং নানা ধরনের অবহেলা চলছেই।”
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান তুহিনুর রহমান, বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট মো. সাইফুল ইসলাম, প্রক্টর মো. মাহবুবুর রহমান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক মো. আশরাফুল আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন এবং তাদের দাবি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। এর পরই শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিগুলি কলা অনুষদের ডিন বরাবর লিখিতভাবে জমা দেন।
ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান তুহিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, “বাইরের একজন পরীক্ষকের কাছ থেকে নম্বর পেতে বিলম্ব হওয়ার কারণে ফল প্রকাশে দেরি হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের আসন বরাদ্দের সময় সুপারিশ করা হলেও তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমলে নেয়নি।” তিনি আরও জানান, সকালে বিভাগের অফিসে তালা লাগানোর পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আলোচনার পর শিক্ষার্থীরা তালা খুলে দেন এবং বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়।
