বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ঋণখেলাপিরা যাতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন না পান, তা নিশ্চিত করার জন্য তাঁদের পক্ষ থেকে আন্তরিক চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, রাতারাতি সবকিছু পরিবর্তন সম্ভব নয, তবে ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন তাঁরা।
আজ শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে আয়োজিত ‘শ্বেতপত্র এবং অতঃপর: অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সংস্কার ও বাজেট’ শীর্ষক দিনব্যাপী সিম্পোজিয়ামের শেষ পর্বে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করেছে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি ২০২৪। সিম্পোজিয়ামের আলোচক ছিলেন সেনটার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সঞ্চালক ছিলেন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
অনুষ্ঠানে প্রথমে বক্তব্য দেন অধ্যাপক রেহমান সোবহান, পরে মির্জা ফখরুল বক্তব্য প্রদান করেন। এরপর তিনি দর্শকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
এসময়, অধ্যপক রেহমান সোবহান মির্জা ফখরুলকে প্রশ্ন করেন, নির্বাচনের আগমুহূর্তে ঋণখেলাপিরা যদি ৫ শতাংশ পরিশোধ করে ভোটে অংশ নেন, বিএনপি এ বিষয়ে কী করবে। মির্জা ফখরুল উত্তরে বলেন, ঋণখেলাপিরা যেন নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন, সে বিষয়ে তাঁরা কঠোরভাবে কাজ করবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ছয় মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়, তবে নির্বাচনের ঘোষণার মাধ্যমে জনগণের কাছে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছরে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের কার্যক্রম শৃঙ্খলিত হয়নি এবং সেটি পুনরুদ্ধারের প্রয়াস চালাতে হবে।
রেহমান সোবহান মির্জা ফখরুলকে প্রশ্ন করেন, ছয় মাসের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ করার বিষয়টি তাড়াহুড়া নয় কি না। মির্জা ফখরুল হাসতে হাসতে বলেন, এটি তাদের দলীয় কশল।
অর্থ পাচারকারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে এক প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা অমূলক নয়, এবং তাঁরা যাতে প্রার্থী হতে না পারেন, সে বিষয়ে তাঁদের পক্ষ থেকে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “এ বিষয়টি দেশের জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা রানৈতিক দলগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেব না।”
বিএনপি কেন দ্রুত নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছে, এমন প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁরা বিশ্বাস করেন, নির্বাচিত সরকারই সংস্কারসহ সকল সমস্যার সমাধান করতে পারবে।
অধ্যাপক রেহমান সোবহান তাঁর বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, ঋণখেলাপি, অর্থ পাচার এবং ব্যাংক ব্যবস্থার অবস্থা তুলে ধরে বলেন, এসব মস্যা দীর্ঘদিন ধরে চললেও বর্তমান সরকার তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষও কোনও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি, এবং পুরো আর্থিক খাত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে।
রেহমান সোবহান আরও বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়, তবে অন্তর্বর্তী সরার কিছু শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে, এবং ভবিষ্যতে নির্বাচিত সরকারকে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে।
