প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের সম্মুখীন করা। তিনি আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও গণমাধ্যম’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এ কথা বলেন।
শফিকুল আলম জানান, “সারা জাতি যদি একত্রিত হয়ে সোচ্চার থাকে এবং চাপ সৃষ্টি করতে পারে, তবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। যেমন তাঁর বাবার খুনিকে একে একে খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, ঠিক তেমনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরবর্তী সরকারের দায়ি্ব হবে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের সম্মুখীন করা।” তিনি আরও বলেন, এই উদ্দেশ্যে যত ধরনের আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন, সেটি সৃষ্টি করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, “জুলাই বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রসংস্কার। আমরা সেই সংস্কারের জন্য কাজ করছি, তবে কিছু কিছু কাজের ক্ষেত্রে মানুষ আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, বিপ্লবের পথ কি হারিয়ে গেছে?” তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, “জুলাই বিপ্লব বেহাত হয়নি এবং এর আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী কাজ চলছে।”
শফিকুল আলম পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, “পুলিশ কি আগের মতোই থাকবে, পলিটিক্যাল গভর্নমেন্টের হয়ে মানুষকে নিপীড়ন করবে? না, পুলিশ হবে বাংলাদেশের মানুষের বন্ধু। সেই জন্যও কাজ চলছে।”
বর্তমান সরকারের রাষ্ট্রসংস্কারের দ্যোগগুলোতে উন্নতি হয়েছে জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, “বিশেষ করে, প্রতি মাসে দেশের অর্থনীতিতে উন্নতি হচ্ছে, যা একটি বড় অর্জন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ইবিসাস) যৌথ আয়োজনে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডয়া জার্নালিজম বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রশিদুজ্জামান, প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নকীব মো. নসরুল্লাহ। সেমিনারে আলোচক ছিলেন বাসসের বিশেষ সংবাদদাতা ও প্রধান উপদেষ্টা প্রেস উইংয়ের সদস্য এস এম রাশিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি তাইমুল হক।
