কিভাবে হারিয়ে গেছে এক সময়ের ‘নকিয়া’ ফোন

নকিয়ার উত্থান এবং পতন

একসময় ফিনল্যান্ডের ‘নকিয়া’ ছিল মোবাইল ফোন শিল্পের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম। ২০শ শতাব্দীর শেষদিকে ব্র্যান্ডটি ধীরে ধীরে নির্ভরযোগ্যতা ও উদ্ভাবনের প্রতীক হয়ে ওঠে। কিন্তু মাত্র এক দশকের মধ্যে হারিয়ে যেতে থাকে এই ব্র্যান্ড।

১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে, ‘নকিয়া’ ছিল পৃথিবীজুড়ে মোবাইল ফোন বাজারের রাজা। তবে এক দশকের মধ্যে তাদের ব্যবসা সংকুচিত হয়ে পড়ে, এবং শেষ পর্যন্ত মাইক্রোসফটের কাছে তাদের মোবাইল ব্যবসা বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল ‘অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম’-এর উত্থান।

নকিয়ার কিছু ভুল সিদ্ধান্ত ছিল ঠিকই, তবে গুগলের ওপেন-সোর্স অপারেটিং সিস্টেম স্মার্টফোন শিল্পে এক বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে। এর ফলে নকিয়ার পক্ষে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। ২০০০ সালের মাঝামাঝি সময়ে, নকিয়া বিশ্বব্যাপী মোবাইল ফোন বাজারের ৪০% শেয়ার দখল করে ছিল। ৩৩১০ মডেল এবং এন-সিরিজের মতো আইকনিক ফোনগুলো জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, কারণ সেগুলো ছিল টেকসই, ব্যবহারকারী বান্ধব ডিজাইন এবং আধুনিক ফিচারের সমন্বয়ে। নকিয়ার নিজস্ব সিমবিয়ান অপারেটিং সিস্টেমও বেশ শক্তিশালী ছিল। তবে, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সাথে সাথে এবং স্মার্টফোনের প্রতি গ্রাহকদের আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায়, নকিয়া পেছনে পড়ে যায়।

২০০৮ সালে গুগল অ্যান্ড্রয়েড চালু করলে মোবাইল ফোনের বিশ্ব পরিবর্তিত হয়ে যায়। অ্যান্ড্রয়েড ছিল একটি ওপেন-সোর্স অপারেটিং সিস্টেম যা বিভিন্ন কোম্পানি ব্যবহার করতে পারত। স্যামসাং, এইচটিসি, মটোরোলা ইত্যাদি ব্র্যান্ডগুলি অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহার করতে শুরু করে এবং এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। অন্যদিকে, নকিয়া সিমবিয়ানেই আটকে ছিল, যা আধুনিক স্মার্টফোনের প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি। প্রযুক্তিবিদরা মনে করেন, অ্যান্ড্রয়েডের উত্থান মোবাইল ফোন শিল্পে বিপ্লব ঘটালেও, নকিয়ার ভুল সিদ্ধান্তই তাদের পতন ত্বরান্বিত করেছে। তাদের একটি বড় ভুল ছিল অ্যান্ড্রয়েড গ্রহণ না করা। যদিও তারা লিনাক্সভিত্তিক ‘মি গো’ অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করার চেষ্টা করেছিল, তবে অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে এটি ব্যর্থ হয়। ফলে, নকিয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক প্ল্যাটফর্ম হারিয়ে ফেলে।

২০১১ সালে, নকিয়ার সিইও স্টিফেন এলপ একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেন এবং মাইক্রোসফটের সঙ্গে অংশীদারিত্ব স্থাপন করেন। ২০১২ সালে, নকিয়ার লুমিয়া সিরিজ উইন্ডোজ ফোনের জন্য প্রশংসিত হলেও, তার সীমাবদ্ধতা গ্রাহকদের আকর্ষণ হারাতে শুরু করে। ২০১৩ সালে, নকিয়ার স্মার্টফোনের বাজারে শেয়ার ব্যাপকভাবে হ্রাস পায় এবং শেষ পর্যন্ত নকিয়া তাদের মোবাইল ব্যবসা মাইক্রোসফটকে ৭২০ কোটি ডলারে বিক্রি করতে বাধ্য হয়।

2 Replies to “কিভাবে হারিয়ে গেছে এক সময়ের ‘নকিয়া’ ফোন”

  1. এর পেছনে অন্যতম বড় কারণ ছিল- ‘অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম’-এর উত্থান। এটা সত্য- নকিয়ার কিছু ভুল ছিল, তবে গুগলের ওপেন-সোর্স অপারেটিং সিস্টেম স্মার্টফোন শিল্পকে প্রকৃত অর্থেই বদলে দেয়। ফলে নকিয়ার পক্ষে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

  2. ২০১৮ সাল থেকে হারিয়ে গিয়ে হারিয়ে গিয়েছে আমাদের মাঝে থেকে এই মোবাইলটি। মনে হয় ভালো কোন মোবাইল ছিল। কিন্তু বর্তমানে স্মার্টফোনগুলো অনেক দ্রুত এবং বেশিদিন টিকে টিকে থাকে। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম মোবাইলে এটা যদি আবার ফিরে আসে তাহলে কি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *