যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়

রমজান মাস মুমিনের জন্য এক মহা বরকতপূর্ণ সময়, যা আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের মাধ্যমে জীবনের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে। এটি আল্লাহর রহমত ও অফুরান দানে পূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানকে “শাহরুন আজিম” (মহান মাস) এবং “শাহরুম মোবারক” (বরকতময় মাস) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

রাসুল (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি ঈমানসহ এবং সওয়াবের আশা নিয়ে রমজানের রোজা রাখবে, তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে। আর যে ব্যক্তি ঈমানসহ এবং সওয়াবের জন্য রমজানে কিয়ামের নামাজ (তারাবি) আদায় করবে, তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ হবে।” (বোখারি ১/২৫৫, মুসলিম ১/২৫৯)

এবার আমরা জানব রোজা ভঙ্গের কিছু কারণ:

  1. ইনহেলার ব্যবহার: রোজা অবস্থায় অসুস্থতার কারণে ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। (শামি ৩/৩৬৬)
  2. ইচ্ছাকৃত বমি করা: রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে বা মুখে বমি চলে এসে তা যদি ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেলা হয়, তবে রোজা ভেঙে যাবে। (মুসান্নাফে আব্দুর রাজজাক ৪/১৯৭)
  3. নাশিকা দিয়ে রক্ত প্রবাহিত হলে: যদি নাক থেকে রক্ত বের হয়ে মুখে চলে যায়, রোজা ভেঙে যাবে। (তাতারখানিয়া ৩/৩৮৩)
  4. ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় পান করা: যদি রোজাদার মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়ে এবং সুবহে সাদিক (ফজর সময়) হয়ে গিয়ে পান কিছু পরিমাণে গিলে ফেলে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে। (শামি ৩/৩৭৪)
  5. অনিচ্ছাকৃত পানি গলা দিয়ে চলে গেলে: কুলি করার সময় যদি অনিচ্ছাকৃত পানি গলা দিয়ে পেটে চলে যায়, তাহলে রোজা কাজা করতে হবে। কাফফারা দিতে হবে না। (তাতারখানিয়া ৩/৩৭৮)
  6. নাক বা কানের তেল: নাক বা কানের মধ্যে তেল দেওয়ার মাধ্যমে রোজা ভেঙে যাবে, তবে কাফফারা ওয়াজিব হবে না। (হেদায়া ১/২২০)
  7. ভুলে গিয়ে পানাহার করা: যদি রোজার কথা ভুলে গিয়ে কেউ পানাহার করে এবং পরে জানে যে রোজা ভেঙে গেছে, তাহলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে এবং কাজা করতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা ৬/১৪৯)
  8. অহারযোগ্য বস্তু খাওয়া: পাথরের কণা, মাটি, ঘাস, কাগজ ইত্যাদি যা খাওয়া যায় না, তা খেলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে। (বাযযাযিয়া ৪/৯৯)
  9. দাঁত থেকে রক্ত বের হলে: যদি দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে থুতুর সঙ্গে মিশে যায় এবং রক্তের পরিমাণ থুতুর সমান বা বেশি হয়, রোজা ভেঙে যাবে। (বোখারি ১/২৬০)
  10. বিড়ি, সিগারেট বা হুঁকা পান করা: বিড়ি, সিগারেট, বা হুঁকা পান করলে রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে। (শামি ৩/৩৬৬)
  11. কঠিন অসুস্থতায় রোজা ভাঙা: যদি কেউ কঠিন অসুস্থতার কারণে রোজা ভেঙে ফেলে, তাহলে শুধু কাজা করতে হবে, কাফফারা দিতে হবে না। (তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১৮৯)
  12. ইচ্ছাকৃত রোজা ভাঙা: যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে ফেলে এবং পরে অসুস্থ হয়ে যায় বা কোনো নারীর মাসিক শুরু হয়, তাহলে তাকে শুধু কাজা করতে হবে, কাফফারা দিতে হবে না। (হিন্দিয়া ১/২০৬)
  13. স্ত্রীর সঙ্গে জোর করে সহবাস করা: রোজা অবস্থায় স্বামী যদি স্ত্রীকে জোর করে সহবাস করে, তাহলে স্ত্রীকে শুধু কাজা করতে হবে, কাফফারা লাগবে না। (তাতারখানিয়া ৩/৩৯৪)
  14. সফরের সময় রোজা ভাঙা: সফরের কারণে রোজা ভেঙে ফেলা উচিত নয়, তবে যদি কেউ ভেঙে ফেললে, তাকে শুধু কাজা করতে হবে, কাফফারা লাগবে না। (আলমগিরি ১/২০৬)
  15. প্রস্রাবের রাস্তার ওষুধ ব্যবহার: যদি কোনো পুরুষের প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে ওষুধ দেওয়া হয় এবং তা অণ্ডকোষ পর্যন্ত পৌঁছায়, তবে রোজা ভেঙে যাবে। অন্যথায় রোজা ভাঙবে না। (তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১৮৩)
  16. নারীর লজ্জাস্থানে ওষুধ লাগানো: নারীর লজ্জাস্থানে ওষুধ লাগালে রোজা ভেঙে যাবে। (বাহরুর রায়েক ২/৪৮৮)

এই সমস্ত কারণে রোজা ভেঙে যেতে পারে, এবং রোজার যথার্থতা ও পূর্ণতা বজায় রাখার জন্য এসব বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

One Reply to “যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায়”

  1. মুসলমানদের কাছে পবিত্র রমজান মাসে যারা রোজা রাখেন, তারা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিছুই মুখে দেন না। এ বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে রোজা শুরু হচ্ছে।

    মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের বিভিন্ন বয়সের বেশিরভাগ মানুষও এসময় রোজা রাখেন।

    বাংলাদেশ সহ বিশ্বের সকল ধর্মপ্রাণ মুসলিম বিশ্বাস করেন, এ মাসে স্বেচ্ছা নিয়ন্ত্রণ ও বেশি সময় ধরে প্রার্থনার ভেতর দিয়ে তারা নতুন করে আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে পারবেন।

    তাই, ধর্মে রোজা সংক্রান্ত যেসব নিয়মের কথা বলা আছে, রমজানে তারা সেগুলো মেনে চলেন।

nafisa raisa কে একটি উত্তর দিন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।