গাজায় দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি আলোচনা: অনিশ্চয়তার মাঝে পরিস্থিতি

ফিলিস্তিনের গাজায় প্রথম ধাপের ৪২ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ১৬তম দিনের আগেই দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। আগামীকাল, সোমবার, এ আলোচনা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে, ইসরায়েলের প্রতিনিধিদল পাঠানোর ব্যাপারে অনিশ্চয়তার কারণে আলোচনাটি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশি রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন। আজ তিনি ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

আজ, দোহায় এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল-থানি এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান আলোচনা করেন। কাতার গাজার যুদ্ধবিরতি আলোচনা প্রক্রিয়ায় অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ। শেখ মোহাম্মদ জানান, গাজায় দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে আলোচনা শুরুর বিষয়ে কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। তবে কাতার জানাচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কিছু অগ্রগতি আশা করা যায়।

গত ১৯ জানুয়ারি, দীর্ঘ ১৫ মাসের যুদ্ধের পর গাজায় প্রথম ধাপের ৪২ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইতিমধ্যেই ইসরায়েল এবং হামাস চার ধাপে বন্দী বিনিময় সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে ১৮ জন জিম্মি এবং বেশ কিছু ফিলিস্তিনি মুক্তি পেয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে তিন ধাপে যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে সব জীবিত ও মৃত জিম্মি মুক্তি দেওয়ার এবং গাজার থেকে ইসরায়েলের সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে।

একটি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের আগে কাতারে প্রতিনিধি দল পাঠানো নিয়ে বিলম্ব করছেন নেতানিয়াহু। জানা গেছে, নেতানিয়াহু দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির আলোচনার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তিনি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং শিন বেতের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকও বাতিল করেছেন।

এদিকে, টাইমস অব ইসরায়েল–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু কৌশলগত বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মন্ত্রী রন দেরমারকে দ্বিতীয় ধাপের আলোচক দলের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা ভাবছেন। তাঁর মতে, দ্বিতীয় ধাপের আলোচনাগুলো নিরাপত্তার চেয়ে কূটনৈতিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেবে।

এছাড়া, নেতানিয়াহু আজ ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে বলেছেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে হামাসের বিরুদ্ধে বিজয়, সকল জিম্মির মুক্তি এবং ইরানের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ মোকাবেলার বিষয়ে আলোচনা করবেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে তিনি ইসরায়েলের সঙ্গী হিসেবে গভীর সম্পর্কের কথা বলেছিলেন এবং মনে করা হচ্ছে, বর্তমান মেয়াদে এই সম্পর্ক একইভাবে অব্যাহত থাকবে।

এই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি গাজায় যুদ্ধবিরতি জোরদারের বিষয়ে এক টেলিফোন আলোচনা করেন এবং মিসরের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শনিবার, জেনিনে পৃথক হামলায় পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে।

এদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসকে লেখা এক চিঠিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস গাজার পুনর্গঠন বিষয়ে বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।