“স্তন ক্যানসার শনাক্তকরণের জন্য আলট্রাসাউন্ড না ম্যামোগ্রাম, কোনটি বেশি কার্যকর?”


যাঁদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি, তাঁদের জন্য আগে স্ক্রিনিং জরুরি

যাঁদের পরিবারে অল্প বয়সে স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে স্ক্রিনিং শুরু করার বয়সও কমিয়ে দেওয়া উচিত। বিশেষ করে, যদি আপনার পরিবারে কেউ স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন, তবে আপনার চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে স্ক্রিনিংয়ের বয়স এবং সময় ঠিক করা জরুরি। স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের মূল উদ্দেশ্য হলো ক্যানসার শুরু হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করা, যাতে তা শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই চিকিৎসা শুরু করা যায়। নিয়মিত স্ক্রিনিং মৃত্যুঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগে চিকিৎসকরা স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে তা শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করতে পারেন। এইভাবে, মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

আলট্রাসাউন্ড না ম্যামোগ্রাম? কোনটি বেশি কার্যকর?

অনেকের মনে এই প্রশ্ন থাকে, “ম্যামোগ্রামের পরিবর্তে কি আমি আলট্রাসাউন্ড ব্যবহার করতে পারি?” এর উত্তর হলো, “না।” ম্যামোগ্রাম স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক স্ক্রিনিং টুল হিসেবে বেশি কার্যকর। সাধারণত, স্তন ক্যানসারের স্ক্রিনিং পরীক্ষায় আলট্রাসাউন্ড ব্যবহার করা হয় না, তবে যখন ম্যামোগ্রামে কোনো অস্বাভাবিকতা বা গঠনগত সমস্যা দেখা যায়, তখন আলট্রাসাউন্ড করা হয়।


গবেষণায় দেখা গেছে, ম্যামোগ্রাম স্তন ক্যানসারের প্রথম দিকের লক্ষণগুলো শনাক্ত করতে সবচেয়ে কার্যকর। এটি স্তন ক্যানসারের প্রাথমিক পর্যায় বুঝে, মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এই কারণে, ম্যামোগ্রামকে স্তন ক্যানসারের স্ক্রিনিংয়ের প্রথম পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

ম্যামোগ্রাম: স্তন ক্যানসারের প্রধান স্ক্রিনিং পরীক্ষা

ম্যামোগ্রাম একটি এক্স-রে পরীক্ষা যা স্তনের টিস্যুর ছবি তুলে স্তন ক্যানসার শনাক্ত করে। এই প্রক্রিয়ায় দুটি প্লেটের মধ্যে স্তনটি সংকুচিত করা হয় এবং তারপর এক্স-রে প্রযুক্তি দিয়ে ছবি তোলা হয়। কিছুটা চাপ অনুভূত হতে পারে, তবে এটি খুবই সাময়িক এবং কেবল মাইক্রোক্যালসিফিকেশন (ক্যালসিয়াম জমাট বাঁধা) এবং স্পষ্ট ছবি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয়।

যদি ম্যামোগ্রামের ফলাফল কোনও অস্বাভাবিকতার ইঙ্গিত দেয়, তাহলে চিকিৎসকরা অতিরিক্ত পরীক্ষা (যেমন আলট্রাসাউন্ড) করার পরামর্শ দেন। সাধারণত ৫-১০% নারীর জন্য আরও পরীক্ষা করা হয়, তবে এসব ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় ক্যানসার থাকে না।

আলট্রাসাউন্ড: পরিপূরক পরীক্ষার ভূমিকা

আলট্রাসাউন্ডে উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সি শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করা হয়, যা স্তনের ভিতরে কোন অস্বাভাবিক টিস্যু বা সিস্ট থাকলে তা শনাক্ত করতে সাহায্য করে। এটি গর্ভবতী নারীদের জন্যও নিরাপদ, কারণ এতে কোনো রেডিয়েশন ব্যবহার হয় না। তবে, আলট্রাসাউন্ডের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

এটি পুরো স্তনের ছবি তুলতে পারে না এবং এর ফলাফল অপারেটরের দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল। যেহেতু এটি স্তনের গভীর অংশে সঠিক ছবি তুলতে পারে না, সেহেতু ম্যামোগ্রামই মূল স্ক্রিনিং পরীক্ষা হিসেবে বেশি কার্যকর।


কখন আলট্রাসাউন্ড উপকারী হতে পারে?

যদিও আলট্রাসাউন্ড একটি পরিপূরক পরীক্ষা, কিছু ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে:

  • আপনি যদি একটি চাকা অনুভব করেন, কিন্তু ম্যামোগ্রামে কোনও অস্বাভাবিকতা না দেখা যায়।
  • আপনি যদি ২০-৩০ বছরের মধ্যে হন এবং স্তনে কোনও সমস্যা অনুভব করেন।
  • আপনি গর্ভবতী হলে।
  • যদি আপনার স্তনে সিস্ট থাকে এবং তা নিষ্কাশন করতে হয়।

একই সঙ্গে, কিছু নারীর জন্য ম্যামোগ্রাম ও আলট্রাসাউন্ড দুটোই প্রয়োজন হতে পারে, বিশেষ করে যদি স্তনের টিস্যু ঘন হয়।

স্তন ক্যানসারের স্ক্রিনিংয়ের জন্য বয়স এবং নিয়মিততা

৪০-৪৯ বছর বয়সী নারীদের জন্য প্রতি বছর স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং করানো উচিত। এর মাধ্যমে ক্যানসার শুরু হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করা সম্ভব, ফলে চিকিৎসা শুরু করা সহজ হয় এবং মৃত্যুঝুঁকি কমে যায়।

ডা. ইসমাত লিমা, সহযোগী অধ্যাপক, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ

One Reply to ““স্তন ক্যানসার শনাক্তকরণের জন্য আলট্রাসাউন্ড না ম্যামোগ্রাম, কোনটি বেশি কার্যকর?””

Tamanna Islam কে একটি উত্তর দিন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।