রমজানুল মুবারক – কল্যাণের অফুরন্ত ভান্ডার

রমজানুল মুবারক, সিয়াম সাধনার মাস, হৃদয়ে শান্তি আনার এক সুন্দর নাম। এক বছর অপেক্ষা শেষে মুমিনের কাঙ্ক্ষিত মাস, যেন চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় থাকা। রমজানুল মুবারক আসলে এমন এক মাস, যেটি কল্যাণের অফুরন্ত ভান্ডার নিয়ে আসে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি শ্রেষ্ঠ নেয়ামতগুলোর একটি।

রমজানের পরিচয়

কোরআন মাজিদ এবং হাদিস শরিফে রমজান মাসের বিশুদ্ধ পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে রমজান সম্পর্কে বলা হয়েছে, “রমজান মাস হলো সেই মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে।” (সুরা বাকারা: ১৮৫)।

হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “তোমাদের কাছে রমজান মাস এসেছে, যে মাসটি বরকতে পরিপূর্ণ।” (সুনানে নাসায়ী- ২১০৬)

রমজান মাসে করণীয়

রমজান মাসের দুইটি মৌলিক করণীয় রয়েছে:
১. দিনের বেলায় সিয়ামসাধনা (রোজা রাখা)।
২. রাতে কিয়ামুল লাইল (তারাবীহ নামাজ) পড়া।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “তোমাদের মধ্যে কেউ রমজান মাস পেলে সে যেন রোজা রাখে।” (সুরা বাকারা: ১৮৫)

রোজা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনাচার থেকে বিরত থাকা। রমজান মাসে রোজা রাখা ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম।

আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, “ইসলামের স্তম্ভ পাঁচটি:
১. আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রসুল- এই কথার সাক্ষ্য প্রদান করা।
২. সালাত কায়েম করা।
৩. জাকাত আদায় করা।
৪. হজ সম্পাদন করা।
৫. রমজানের সিয়াম পালন করা।”
(সহিহ বুখারি: ৮)

রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ হলো রাতের বেলায় জামাতের সঙ্গে ২০ রাকাত তারাবিহ নামাজ পড়া। হজরত সালমান ফারসি (রা.) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেন, “আল্লাহ রমজানে দিনের বেলায় সিয়ামসাধনা ফরজ করেছেন এবং রাতে তারাবিহকে সুন্নাহ সাব্যস্ত করেছেন।” (সহিহ ইবনে খুজাইমা-১৮৮৭)

রোজা ও তারাবিহর অনন্য পুরস্কার

রমজানুল মুবারকের দুটি মৌলিক আমল, রোজা ও তারাবিহ, মুমিনের জীবনে অফুরন্ত কল্যাণ বয়ে আনে। এর মাধ্যমে জীবনের পাপমুক্তি ঘটে এবং মানবিক পরিশুদ্ধি আসে।

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি রমজানে ইমানের সাথে এবং পুরস্কারের আশায় রোজা রাখে, আল্লাহ তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেন। এবং যে ব্যক্তি রমজানের রাতে ইমানের সাথে এবং পুরস্কারের আশায় রাত জেগে ইবাদত করে (তারাবীহ পড়ে), তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” (সহিহ বুখারি-৩৭-৩৮)

সাহল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “জান্নাতে আটটি দরজা রয়েছে, এর মধ্যে একটি দরজা হবে ‘রাইয়ান’। সাওম পালনকারী ছাড়া অন্য কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।” (সহিহ বুখারি- ৩২৫৭)

একটি বিশেষ সতর্কবার্তা

রমজানের অফুরন্ত কল্যাণ কেবল তাদেরই ভাগ্যে জুটবে যারা রোজা রেখে সমস্ত পাপাচার থেকে বাঁচার সর্বাত্মক চেষ্টা করে। অন্যদিকে, যারা রোজা রেখেও মিথ্যা, গিবত, বা হারাম কাজ পরিত্যাগ করে না, তাদের পানাহার পরিত্যাগ আল্লাহর কাছে কোনো মূল্য রাখে না।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মিথ্যা বলা এবং তার অনুসারে আমল বর্জন করেনি, তার পানাহার পরিত্যাগ আল্লাহর কাছে কোনো প্রয়োজন নেই।” (সহিহ বুখারি- ১৯০৩)

আসুন, আমরা রমজান মাসে সৎ ও পবিত্র জীবন যাপন করার সর্বাত্মক চেষ্টা করি। রমজানের সৌরভে আমাদের জীবনকে সুরভিত করি। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

2 Replies to “রমজানুল মুবারক – কল্যাণের অফুরন্ত ভান্ডার”

  1. এই রমজান মাসটি ইসলাম ধর্মের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন_ যে ব্যক্তি রমজান ঈমানের সাথে এবং পুরস্কারের আশায় রোজা রাখবে আল্লাহ তার পূর্ববর্তী গুনাহ মাফ করবেন। রমজান মাসে দুইটি মৌলিক করণীয় রয়েছে যেটি পালন করা আমাদের খুবই প্রয়োজন যেমন দিনে রোজা রাখা এবং রাতে তারাবীহ নামাজᰔ

  2. রমজান আল – মোবারক আসে বছরে একবার একটি মাসের জন্য, আল্লাহ পাকের অপার করুনা ও মহা – কল্যাণ নিয়ে । আল্লাহ পাকের অসংখ্য অগণিত শোকর, যিনি আমাদেরকে এ মাসের সাথে সাক্ষাৎ করিয়ে দিয়েছেন । আমাদের উচিৎ এ মহমান্বিত মেহমানকে উঞ্চ অভ্যর্থনা জানানো এবং এ থেকে কল্যাণ লাভের আশা নিয়ে এবং উপকৃত হহওয়ার একান্ত বাসনা নিয়ে সাদরে বরকতময় মেহমানকে বরণ করা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।