”যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পিস্তলে খুন, সরবরাহকারী রায়হান পলাতক – পুলিশ”

খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী, যিনি টিপু নামেও পরিচিত, ৫৪ বছর বয়সে হত্যার শিকার হয়েছেন। তাঁর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তলটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি এবং খুলনা শহরের দৌলতপুর এলাকার রায়হান শেখ নামের এক ব্যক্তি এই অস্ত্রটি পাঁচটি গুলিসহ সরবরাহ করেছিলেন। মামলার তদন্তকারীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সম্প্রতি কক্সবাজারের একটি হোটেল কক্ষ থেকে পিস্তলটি উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় ১৫ জানুয়ারি কক্সবাজার সদর মডেল থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিরা হলেন শেখ শাহরিয়ার ইসলাম (২৭), গোলাম রসুল (২৫), রিপন (৪৫), রায়হান শেখ (৩২), এবং রিয়াজুল ইসলাম (২৭)। তারা সবাই খুলনার দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা।

এ পর্যন্ত শাহরিয়ার ইসলাম এবং গোলাম রসুল গ্রেপ্তার হয়েছেন। পুলিশ তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে, যা আগামীকাল রোববার শুনানির জন্য উপস্থাপন হবে।

মামলার এজাহারে জানা যায়, শাহরিয়ার ইসলাম ২০১৭ সালে তাঁর চাচা হুজি শহীদকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে গোলাম রব্বানীকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শাহরিয়ার এবং তার সহযোগী রিয়াজুল ইসলাম রব্বানীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ৭ জানুয়ারি রব্বানী কক্সবাজারে বেড়াতে যান, এবং ৯ জানুয়ারি শাহরিয়ার ও তার সহযোগীরা সেখানে পৌঁছান। তারা কক্স কুইন রিসোর্টে অবস্থান নেন, এবং রাতে সৈকতের কাছে রব্বানীকে পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি করে হত্যা করেন।

পুলিশ জানায়, হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত পিস্তলটি কক্স কুইন রিসোর্টের ২০৮ নম্বর কক্ষের সানশেড থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, এবং এতে আরও চারটি গুলি পাওয়া গেছে। পিস্তলের গায়ে “মেড ইন ইউএসএ” লেখা ছিল, যা আগের প্রতিবেদনে মিয়ানমারের তৈরি অস্ত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

গ্রেপ্তার হওয়া শাহরিয়ার ইসলাম তার স্বীকারোক্তিতে বলেন, তিনি রায়হান শেখ থেকে পিস্তলটি পাঁচটি গুলিসহ গ্রহণ করেছিলেন। হত্যার পরিকল্পনার সময়, শাহরিয়ার এবং তার সহযোগী ঋতু, রিয়াজুল, গোলাম রসুল ও অন্যরা রব্বানীকে হত্যা করার জন্য প্রস্তুতি নেন।

ঋতু, যিনি হত্যাকাণ্ডের সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন, আদালতে তার স্বীকারোক্তিতে বলেছেন যে, তিনি হত্যার পর পেছনে তাকাননি এবং সরাসরি চলে গিয়েছিলেন, কারণ তিনি জানতেন যে শাহরিয়ার রব্বানীকে গুলি করে হত্যা করেছেন।

পুলিশ আরও জানায়, খুলনা সিটির সাবেক কাউন্সিলর শেখ হাসান ইফতেখারের নামও এই হত্যাকাণ্ডে উঠে এসেছে। ইফতেখার, যিনি ওই এলাকার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, র‌্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁর সঙ্গী মেজবাহুল হককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা ইফতেখারের নাম উল্লেখ করেছেন, এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন করেছে, যা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।