ডায়াবেটিস সম্পর্কিত উদ্বেগ বা আতঙ্ক অস্বাভাবিক কিছু নয়, বিশেষত রোগটির দীর্ঘস্থায়ী প্রকৃতি এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় লাইফস্টাইল পরিবর্তনের কারণে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেক লোক, বিশেষত যারা নতুন শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে রোগের চিকিৎসা ও পরিচালনা নিয়ে নির্দিষ্ট ধরনের উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। এই উদ্বেগগুলো তাদের জীবনযাত্রা এবং কার্যকরভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। নিচে ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে সাধারণ কিছু উদ্বেগ এবং আতঙ্ক তুলে ধরা হলো:
১. সুচ আতঙ্ক (নিডেল ফোবিয়া):
এটি হচ্ছে সুচ, ইনজেকশন বা রক্ত পরীক্ষার ভয়।
প্রভাব: যারা ইনসুলিন গ্রহণ করেন বা আঙুল থেকে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে গ্লুকোজ পরিমাপ করেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
২. রক্তের গ্লুকোজ কমে যাওয়ার (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) ভয়:
হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা অতি কম রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ে তীব্র ভয়।
প্রভাব: এটি অনেক সময় মৃত্যুভয়ের কারণ হতে পারে এবং হাইপোগ্লাইসেমিয়া ফোবিয়া নামে পরিচিত। অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট খাওয়া বা ইনসুলিন ডোজ কমানোর মাধ্যমে এই ভয় আরো বেশি পরিমাণে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করতে পারে।
৩. ডায়াবেটিসের জটিলতার ভয়:
ডায়াবেটিস সম্পর্কিত নিউরোপ্যাথি, রেটিনোপ্যাথি, কিডনি সমস্যা বা কার্ডিওভাসকুলার রোগের ভয়।
প্রভাব: এই ভয়ের ফলে রোগীদের মধ্যে অতিরিক্ত উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা তাদের ডায়াবেটিসের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
৪. জনসমাজে বিব্রত হওয়ার ভয়:
সামাজিক পরিবেশে ডায়াবেটিস পরিচালনা করার বিষয়ে উদ্বেগ, যেমন রক্তের শর্করা পরীক্ষা বা ইনসুলিন নেওয়া।
প্রভাব: এমন উদ্বেগের কারণে অনেকে সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বা বাইরে খাওয়া এড়িয়ে যেতে পারে, যা মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করতে পারে।
৫. খাদ্যের ওপর গ্লুকোজের প্রভাবের ভয়:
খাবারের প্রতি অযৌক্তিক ভয়, যা রক্তে শর্করা কতটা প্রভাবিত করবে তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
প্রভাব: এতে খাদ্যাভ্যাসে বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে, ফলে পুষ্টির ঘাটতি হতে পারে।
৬. ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ উদ্বেগ:
রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা, ওষুধের সময়সূচি অনুসরণ করা বা খাদ্যতালিকা মেনে চলার দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ।
প্রভাব: এ ধরনের উদ্বেগ রোগীদের মাঝে ‘বার্নআউট’ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে তারা রুটিনগুলো অবহেলা করতে পারে এবং তাদের অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে।
৭. দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের ভয়:
ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সমস্যা আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা।
প্রভাব: এই উদ্বেগ রোগীদের মানসিকভাবে অত্যন্ত চাপের মধ্যে ফেলতে পারে, যা তাদের দৈনন্দিন ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ রাখতে কঠিন করে তোলে।
৮. স্বাস্থ্য সংক্রান্ত উদ্বেগ:
গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা বা বিকাশের বিষয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ, যার মধ্যে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা এবং লক্ষণগুলির প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া অন্তর্ভুক্ত।
প্রভাব: এতে বারবার শর্করার স্তর পরিমাপ করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে, যা একদিকে উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়, আবার অন্যদিকে উচ্চ গ্লুকোজ দেখে নজরদারি এড়াতে পারে।
এ সকল উদ্বেগ এবং আতঙ্কগুলি ডায়াবেটিস রোগীদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান প্রায় মানুষ জন এই ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত। এই রোগের কারণে দেহের ক্ষতি হতে পারে বা বিভিন্ন ক্ষেত্রে মানুষ মারা যেতে পারে। এসব রোগ থেকে সবাই সাবধান থাকা উচিত।