কার ক্ষতি, কার লাভ

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্পর্কের টানাপোড়েন ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময়কার এই রাজনৈতিক মিত্র দুই দল এখন একে অপরের থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এককভাবে করার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে দুই দল। জামায়াতে ইসলামী দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান তার দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী বৈঠকে এ ব্যাপারে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। বিএনপি নিজস্বভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান বিভিন্ন এলাকায় ভার্চুয়ালি কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। উভয় দলই এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি চালাচ্ছে, যা তাদের সম্পর্কের মধ্যে নতুন চাপ তৈরি করেছে।

নির্বাচনের প্রস্তুতির শুরুতেই দুই দলের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে গেছে, আর অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন, এই দূরত্ব এবং আস্থাহীনতা দুই দলের জন্য কী ধরনের রাজনৈতিক সুবিধা বা ক্ষতি বয়ে আনবে?

জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী তাদের আমির ও সেক্রেটারি জেনারেলকে নিয়ে মাঠে কাজ করছে, দীর্ঘ ছয় মাস ধরে ম্যারাথন প্রোগ্রাম চালাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচন চায়, সংস্কারগুলি শেষ করে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দেশের সংকট সমাধান হবে বলে দলটি মনে করে। জামায়াত এ বিষয়ে ধীর গতিতে এগোতে চায় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য আরও সময় চায়, যা তাদের নেতারা বারবার তুলে ধরছেন। এই অবস্থায়, দুই দলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান দূরত্বের ফলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতি কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বিএনপি ও জামায়াত একসময় একত্রে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে, তবে জামায়াতের সাথে জোট না করেই আওয়ামী লীগকে ১৯৯৬ সালে নির্বাচনে হারাতে সক্ষম হয়েছিল। এমনকি ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের টানা ক্ষমতায় থাকার পেছনে জামায়াতের কৌশলগত ভূমিকা ছিল বড় ধরনের। যদি এই দুই দলের সম্পর্ক ভেঙে যায়, তবে দেশের জন্য তা কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, তা অতীত ইতিহাসই সাক্ষ্য দেয়।

বর্তমানে, দুই দলের মধ্যে দীর্ঘ দুই দশকের সম্পর্কের পর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব বেড়ে চলেছে এবং তারা একে অপরকে কটাক্ষ করে বক্তব্য রাখছে। জামায়াত জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নিজেদের মতো প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে তারা ৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে চায় এবং নির্বাচনে ইসলামি দলগুলোর সাথে জোট গঠন করার চেষ্টা করছে। বিএনপি, তবে, জামায়াতকে ছাড়াই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চায় এবং এরই মধ্যে তারা অন্যান্য সমমনা দলগুলোর সাথে সংলাপ করছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জামায়াত সুদূরপ্রসারী কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে এবং নির্বাচনের জন্য তাদের প্রস্তুতি গড়ে উঠছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “জামায়াত একসময়ের মিত্র হলেও, তারা আমাদের আন্দোলনগুলোতে একযোগে অংশ নেয়নি, যদিও তারা আমাদের কর্মসূচির সাথে মিল রেখে কিছু কর্মসূচি দিয়েছে। তবে, তাদের আদর্শ ও কৌশল আলাদা।”

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “যদি নির্বাচন দ্রুত না হয়, তাহলে জনগণের চাহিদা পূর্ণ হবে না এবং অন্য শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।” জামায়াতে ইসলামী, তবে, নিজেদের বক্তব্যের ব্যাপারে মন্তব্য করেছে যে, দূরত্ব তৈরি হওয়া বা কোন গ্যাপ সৃষ্টি হওয়া, তা একেবারে দলগত নয়; এটি ব্যক্তিগত মতামতের বিষয়, এবং জনগণই এটি নির্ধারণ করবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।