২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস (মেডিকেল) ভর্তি পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী কোটায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের কাগজপত্র বা তথ্যাদি যাচাই–বাছাই করা হবে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, যদি কোনো প্রার্থীর তথ্য ভুল বা মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে তাদের প্রাথমিক নির্বাচন বাতিল করা হবে।
এই যাচাই–বাছাই কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোটায় উত্তীর্ণ ১৯৩ জন প্রার্থীর ভর্তিসংক্রান্ত কার্যক্রম স্থগিত থাকবে, তবে অন্যান্য প্রার্থীদের ভর্তি প্রক্রিয়া এবং মেডিকেল কলেজের অন্যান্য কার্যক্রম চলমান থাকবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা নির্ধারিত রয়েছে, পাশাপাশি পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর জন্যও কোটা রয়েছে।
গতকাল রোববার এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়, তবে কিছু শিক্ষার্থী কোটা বাতিলের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। তারা দাবি করেন, এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে পুনরায় প্রকাশ করতে হবে। এছাড়া, তারা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন, যাতে ৮টার মধ্যে ফলাফল বাতিল করে নতুনভাবে প্রকাশের দাবি জানানো হয়।
এদিকে, আজ সোমবার স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তে জানানো হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের কোটা এবং পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর কোটায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির মাধ্যমে যাচাই–বাছাই করে অনুমোদনের পর ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। সেই অনুযায়ী, ২৩ ও ২৬ জানুয়ারি পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর কোটার প্রার্থীদের এবং ২৭, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙগার সন্তানের জন্য সংরক্ষিত আসনে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের কোটার সপক্ষে সনদ বা প্রমাণপত্রসহ স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। যদি কোনো তথ্য মিথ্যা বা ভুল প্রমাণিত হয়, তবে তাদের প্রাথমিক নির্বাচন বাতিল হবে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক রুবীনা ইয়াসমীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘‘নীতিমালায় মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদি সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে এই কোটা থাকবে না, তবে এই কোটায় কেউ থাকবেন না। তবে যদি সিদ্ধান্ত হয় যে কোটা থাকবে, তাহলে কেবলমাত্র বৈধ কাগজপত্রসহ মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের মধ্যে যারা নির্বাচিত হবেন, তারা কোটায় থাকবে। অন্যদের জন্য মেধাতালিকা অনুযায়ী আসন পূ্ণ করা হবে।”