ফিলিস্তিনি বন্দীদের মধ্যে কারা মুক্তি পেতে পারে?

ইসরায়েলের কারাগারে আটক এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দী এখন তাঁদের মুক্তির প্রথম সুযোগ পেতে যাচ্ছেন। অনেক বন্দী দীর্ঘ বছর ধরে ইসরায়েলি কারাগারে বিনা অভিযোগে আটক আছেন।

গাজায় ইসরায়েলি জিম্মিদের বিনিময়ে কতজন ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি পাবেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের রিপোর্টে বন্দী-বিনিময়ের অনুপাত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির অধীনে, গাজার পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলি কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনিদের মুক্তি একটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে। বর্তমানে, ইসরায়েলের কারাগারে মোট ১০ হাজার ৪০০ ফিলিস্তিনি বন্দী আছেন, যাদের মধ্যে গাজা থেকে আটকের শিকার ফিলিস্তিনিরা অন্তর্ভুক্ত নন। যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে, ৯৫ জন ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে মুক্তি দেওয়া হবে, এবং বাকিরা কবে মুক্তি পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

ইসরায়েলের বিচার মন্ত্রণালয় এক তালিকা প্রকাশ করেছে, যাতে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর আটক হওয়া একাধিক ফিলিস্তিনির নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

যুদ্ধবিরতির চুক্তিটি তিনটি ধাপে বিভক্ত, যার প্রথম পর্যায়ে ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মির বিনিময়ে ১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বন্দী মুক্তি পাবে। তবে, এই মুক্তির পরিমাণ এবং শর্তগুলি ইসরায়েলি ও হামাসের মধ্যে আলোচনার ওপর নির্ভর করছে।

মুক্তির তালিকায় খালিদা জারার নাম অন্তর্ভুক্ত, যিনি পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব ফিলিস্তিনের (পিএফএলপি) নেতা। আরও কয়েকজন বড় মাপের বন্দী মুক্তির দাবি জানিয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ফাতাহ নেতা মারওয়ান বারগুতি এবং পিএফএলপি প্রধান আহমেদ সাদাত।

আগের বন্দী-বিনিময়ের ঘটনা যেমন ২০১৩ সালে ১০০ জন ফিলিস্তিনি বন্দীর মুক্তি, ১৯৮৩ সালে ৪ হাজার ৫০০ বন্দীর বিনিময়ে ৬ ইসরায়েলি সেনা, ১৯৮৫ সালে ১ হাজার ১৫০ বন্দীর বিনিময়ে ৩ ইসরায়েলি সেনার মুক্তি, যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে আবারও বন্দী-বিনিময়ের আলোচনা চলছে।

তবে, বন্দী বিনিময়ের পাশাপাশি গাজার পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।