। কমিশন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদে বাকি বিষয়গুলো প্রদেশের হাতে তুলে দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।
গত বুধবার, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। যদিও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়নি, তবে কমিশনের প্রধান ও সদস্যরা সম্ভাব্য কিছু সুপারিশের কথা তুলে ধরেন। এসব সুপারিশের মধ্যে একটি ছিল চারটি প্রদেশ গঠন করার প্রস্তাব।
কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, চারটি প্রদেশের পরিকল্পনা বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত প্রদেশগুলো হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, এবং খুলনা। তবে, প্রদেশগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো এবং কাজের ক্ষেত্র এখনো স্পষ্ট হয়নি। কমিশন বলছে, এটি এখনো আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সুপারিশ নির্ধারণ করা হয়নি।
বাংলাদেশে প্রদেশ গঠনের বিষয়টি নতুন নয়। আগের এক প্রস্তাবে উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন পাঁচটি প্রদেশ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি বিকেন্দ্রীকরণের উপর জোর দিয়ে বলেছিলেন, বাংলাদেশ জনসংখ্যা ও ভূগোলের দিক থেকে একটি ছোট দেশ, তাই দেশটিকে পাঁচটি প্রদেশে ভাগ করলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও কার্যকরী হবে। তিনি বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রাখা হবে, যেমন প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং সীমান্ত নিরাপত্তা, তবে অন্যান্য বিষয়গুলি প্রদেশের হাতে থাকবে।
বর্তমানে বাংলাদেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে: ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, এবং ময়মনসিংহ। কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।
এদিকে, স্থানীয় শাসনবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ প্রদেশ গঠনের চিন্তাকে সমর্থন করেন না। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে ছোট হলেও জনসংখ্যার ভিন্নতার কারণে প্রদেশ গঠনে নতুন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, বিদ্যমান বিভাগগুলোতে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করলে প্রদেশের প্রয়োজনীয়তা কমে যেতে পারে এবং কোনো নতুন সমস্যা সৃষ্টি না করেও দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থা উন্নত করা সম্ভব।
বর্তমানে কুমিল্লা ও ফরিদপুরকে বিভাগের আওতায় আনার সম্ভাব্য সুপারিশের কথা আগেই জানিয়েছিল জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন।
এছাড়া, ১৫ জানুয়ারি সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, যেখানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি এবং উচ্চ আদালতের বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে দেশের সব বিভাগে হাইকোর্টের স্থায়ী আসন চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া, কমিশনের সম্ভাব্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রথা তুলে দেওয়া, তথ্য অধিকার আইনের আওতায় প্রতিটি জেলায় একজন কর্মকর্তা নিয়োগ করা, এবং উপসচিব পদে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা। তবে, এ বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।