কোহলির ব্যবসায়িক দুনিয়া: বিমা, রেস্টুরেন্ট, জিম ও কফি ব্র্যান্ডের মাধ্যমে নতুন উচ্চতায়

ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে বিরাট কোহলির নাম যে থাকবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। মাঠে অপরাজেয় কোহলি এখন ব্যবসার দুনিয়াতেও নিজের জায়গা পাকা করে ফেলেছেন। ২৫ বছর বয়স থেকেই বিনিয়োগ এবং স্টার্টআপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নানা ধরনের ব্যবসায় আগ্রহী হয়েছেন কোহলি, যার মধ্যে রয়েছে রেস্টুরেন্ট, জিম এবং কফি ব্র্যান্ড।

ভারতের এই কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান সম্প্রতি ‘স্পোর্টিং বিয়ন্ড’ নামক পরামর্শক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, যেখানে মুম্বাইভিত্তিক এই কোম্পানির অংশীদার হিসেবে আছেন ভারতের সাবেক কোচ ও ধারাভাষ্যকার রবি শাস্ত্রী। কোহলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অংশীদারিত্ব নিয়ে একটি পোস্ট করেছেন, যেখানে তিনি এটি একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কোহলির ভাষ্য, ‘স্পোর্টিং বিয়ন্ড’ তার ব্যবসায়িক লক্ষ্য, সততা এবং খেলার প্রতি ভালোবাসার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে।

এটি কোহলির জন্য তার ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ এনে দেবে। বর্তমানে ক্রীড়াঙ্গনের তারকাদের মধ্যে ব্যবসায়িক উদ্যোগে সাফল্য অর্জন একটি সাধারণ প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। যেমন, সাবেক ইংলিশ ফুটবলার ডেভিড বেকহাম, পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, বাস্কেটবল কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডান এবং টেনিস সুপারস্টার রজার ফেদেরার সবেই নানা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রের মধ্যে সফলভাবে বিনিয়োগ করেছেন এবং তাঁদের আয়ের পরিমাণ অনেক গুণ বাড়িয়েছেন। বেকহাম তো ১০ কোটি ডলারের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যই গড়ে তুলেছেন, আর মাইকেল জর্ডানকে বলা হয় ইতিহাসের সবচেয়ে ধনী ক্রীড়াবিদ। কোহলি এখন সেই পথেই হাঁটছেন।

‘স্পোর্টিং বিয়ন্ড’–এর সঙ্গে কোহলির নতুন অংশীদারিত্ব নিয়ে কোম্পানির পরিচালক জয়বীর পানওয়ার বলেছেন, “আমরা কোহলির ব্যবসায়িক পরামর্শক হিসেবে কাজ করব এবং বিশেষজ্ঞদের একটি দল নিয়ে তাঁকে সাহায্য করব।” তিনি আরও জানান, রবি শাস্ত্রী কোম্পানির একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং তাদের দলটি বিশেষায়িত পরিষেবায় দক্ষ।

কোহলির রকমারি বিনিয়োগ

বিশ্ব ক্রিকেটের শীর্ষ তারকাদের মধ্যে একজন হওয়ার কারণে কোহলির ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং বিজ্ঞাপনমূলক চাহিদা অনেক বেশি। গত বছর, তিনি তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক পার্টনার বান্টি সাজদেহের সঙ্গে সম্পর্ক চুক্তি শেষে, এখন নিজের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, কোহলির সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ১ হাজার কোটি রুপি (১৪২৪ কোটি টাকা) ছাড়িয়েছে। তিনি পুমা, এমআরএফ, পেপসি, কোলগেট, অডি, তিসো, স্যামসোনাইট, ভালভোলিন, পিএনবি–সহ একাধিক বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের পণ্যের শুভেচ্ছাদূত।

কোহলির বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য বিমা, বিকল্প প্রোটিনজাতীয় খাবার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্টার্টআপ, ক্রীড়াসামগ্রী, রেস্টুরেন্ট এবং জিমের মতো নানা খাতে বিস্তৃত। ২০১৭ সালে দিল্লিতে তাঁর রেস্টুরেন্ট ‘নুয়েভা বার অ্যান্ড ডাইনিং’ চালু করেন, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়া, কোহলি ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ফুটবল ক্লাব এফসি গোয়া, মোটরস্পোর্ট দল ব্লু রাইজিং এবং বিশ্ববিখ্যাত কফি ব্র্যান্ড ‘রেজ কফি’–র মালিকানাও কিনেছেন। এই মোটরস্পোর্ট দলেও কোহলির সঙ্গে রয়েছেন টেনিস তারকা রাফায়েল নাদাল এবং চেলসির সাবেক স্ট্রাইকার দিদিয়ের দ্রগবা।

কোহলির ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তগুলো শুধু তাঁর ক্যারিয়ারই নয়, ক্রমেই তা ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদাহরণ স্থাপন করছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।