লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনের বিস্তৃত আবাদ: দেশের ৮০ শতাংশ উৎপাদনের কেন্দ্র
লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলে ছড়িয়ে রয়েছে বিস্তীর্ণ সয়াবিন খেত। সবুজের সমারোহে ভরা মাঠে কৃষকেরা ব্যস্ত ফসল পরিচর্যায়। জেলার রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চর বংশী ইউনিয়নের চর কাছিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৭০ শতাংশ কৃষক সয়াবিন আবাদ করেছেন।
লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রায় দুই দশক ধরে সয়াবিনের চাষ হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশে উৎপাদিত মোট সয়াবিনের ৮০ শতাংশই এই জেলা থেকে আসে। আগে আমন মৌসুম শেষে এসব জমি অনাবাদি থাকত, কিন্তু এখন সয়াবিন আবাদ করে কৃষকেরা ভালো লাভ করছেন।
লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১,৬৬০ হেক্টর বেশি জমিতে সয়াবিন আবাদ করা হয়েছে, যা মোট ৪৩,৬৬০ হেক্টর। সঠিক পরিচর্যা হলে এবার ৮৪ হাজার মেট্রিক টন সয়াবিন উৎপাদন হতে পারে, যার বাজারমূল্য ৩২০-৩৫০ কোটি টাকা।
কৃষকেরা জানান, সয়াবিন চাষে খরচ কম, রোগ-পোকার আক্রমণ কম হয় এবং ধানের তুলনায় লাভ বেশি। চরাঞ্চলের অনাবাদি জমিও এখন সয়াবিন চাষের আওতায় এসেছে। রায়পুরের কৃষক ফারুক গাজী জানান, দেড় একর জমিতে চাষ করতে তাঁর খরচ হবে ২৫ হাজার টাকা, আর আয় হবে প্রায় ১ লাখ টাকা।
লক্ষ্মীপুরের হায়দরগঞ্জ বাজারসহ আশপাশের বাজারে এখন ৭০ শতাংশ দেশীয় সয়াবিনের কেনাবেচা হয়। এখানে সয়াবিনের ১০টি চাতাল এবং পার্শ্ববর্তী বাজারগুলোতে আরও ২০টি আড়ত গড়ে উঠেছে।
লক্ষ্মীপুর কৃষি বিভাগের উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ জানান, এ জেলার মাটি ও আবহাওয়া সয়াবিন চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এটি ‘সয়াল্যান্ড’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা আশা করছেন, অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন হবে।
সয়াবিন শুধু ভোজ্যতেল উৎপাদনের প্রধান উৎস নয়, এটি পোলট্রি ও ফিশ ফিড, শিশু খাদ্য, দুধ, দই, বিস্কুটসহ বিভিন্ন খাদ্য ও শিল্পপণ্য তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়। ফলে কৃষকেরা দিন দিন এ চাষে আরও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।