প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ৭, ২০২৬, ৩:১৬ এ.এম ||
প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ৩, ২০২৫, ৯:৫৪ অপরাহ্ন
খেজুর দিয়ে ইফতার করা কেন ভালো?
রমজান মাসে ইফতার করার প্রথা অনেক পুরোনো। কখনো কি ভেবেছেন কেন রোজা ভাঙার জন্য সবাই খেজুর খেতে পছন্দ করেন? মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রিয় খাবারের একটি ছিল খেজুর, এবং তিনি নিজেও ইফতার করতে খেজুর খেতেন। এর পিছনে বৈজ্ঞানিক কারণও রয়েছে।
রোজা রেখে দীর্ঘ সময় খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকার পর আমাদের শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কারণ পুষ্টির অভাব হয়। তাই ইফতারে দ্রুত শক্তি ফিরে পেতে অনেকেই খেজুর খান। খেজুরে থাকা নানা পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্য উপকারী এবং দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
ইফতারে খেজুর খাওয়ার উপকারিতা:
- হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: খেজুরে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এটি হৃদপিণ্ডের সুস্থতার জন্য একটি নিরাপদ খাদ্য।
- ক্যান্সার প্রতিরোধ: পুষ্টিতে সমৃদ্ধ এবং প্রাকৃতিক আঁশে পূর্ণ খেজুর ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। যারা নিয়মিত খেজুর খান, তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক কম থাকে।
- উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: খেজুরে থাকা আয়রন, ফাইবার এবং পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর।
- এনার্জি বাড়ায়: খেজুরে প্রাকৃতিক সুগারের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, যা শরীরে দ্রুত এনার্জি প্রদান করে। এর মধ্যে আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, গ্লুকোজ, ম্যাগনেশিয়াম এবং সুক্রোজ রয়েছে। খেজুর খাওয়ার পর ৩০ মিনিটের মধ্যে শরীরের এনার্জি বেড়ে যায়।
- অ্যাসিডিটি কমায়: খালি পেটে অ্যাসিডিটি হতে পারে, যা অস্বস্তি তৈরি করে। খেজুর শরীরে অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে অস্বস্তি কমায়।
- বেশি খাওয়া প্রতিরোধ: সারা দিন না খেয়ে থাকলে ইফতারে বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। খেজুর খেয়ে রোজা ভাঙলে এর মধ্যে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট দীর্ঘ সময় ধরে হজম হয়, ফলে অতিরিক্ত খাবারের প্রতি তৃষ্ণা কমে।
- হজমে সাহায্য: দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে পেটের পুষ্টিকর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। খেজুর শরীরে উৎসেচক ক্ষরণ বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে হজম ভালো হয়।
খেজুর রোজা ভাঙার জন্য একদম উপযুক্ত খাদ্য। তবে যদি খেজুর পাওয়া না যায়, তাহলে পানি পান করা উচিত, কারণ তা শরীরের জন্য উপকারী এবং হাইড্রেশন বজায় রাখে।
স্বত্ব © ২০২৬ | www.millionarticles.com