প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৪, ২০২৬, ৭:১০ পি.এম ||
প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২, ২০২৫, ৬:১৬ পূর্বাহ্ন
রোজার প্রকার সমূহ জানুন
ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো সিয়াম বা রমজান। ইসলাম ধর্মে আত্মশুদ্ধি ও সংযম সাধনার যে পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা পবিত্র কুরআনের ভাষায় সিয়াম বা রোজা নামে পরিচিত।
‘সিয়াম’ শব্দটি ‘সাওম’ থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো বিরত থাকা বা কোনো কিছু থেকে আলাদা থাকা। শরীয়তের পরিভাষায়, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নির্দিষ্ট নিয়্যত সহকারে পানাহার এবং স্ত্রীর সঙ্গে মিলন থেকে বিরত থাকা হচ্ছে সিয়াম বা রোজা।
রোজার প্রকার:
রোজা ছয়টি প্রকারে বিভক্ত করা যায়, যথা:
- ফরয রোজা:
রমজান মাসের রোজা ফরয। এটি যথাসময়ে পালন করা অথবা প্রয়োজনে কাযা আদায় করা যেতে পারে। এছাড়াও কাফ্ফারা রোজা এবং মান্নত রোজাও ফরয হিসেবে গণ্য হয়।
- ওয়াজিব রোজা:
যে ব্যক্তি নফল রোজা রাখার পর ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলেছে, তার কাযা আদায় ওয়াজিব।
- সুন্নত রোজা:
আশুরার দিন রোজা রাখা এবং তার আগের দিন (৯ মহররম) রোজা রাখা সুন্নত।
- মুস্তাহাব রোজা:
প্রতি মাসে ১৩, ১৪, ১৫ তারিখে তিনটি রোজা রাখা মুস্তাহাব। এছাড়া প্রতি সোমবার এবং বৃহস্পতিবার রোজা রাখা, শাওয়াল মাসের ছয় রোজা রাখা, এবং এমন যেকোনো রোজা, যা হাদিসে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সওয়াবের কথা বলা হয়েছে।
যেমন, দাউদ আলাইহিস সালামের মতো একদিন রোজা রাখা, আর একদিন বিরতি নেওয়া। এটি আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় রোজা।
- নফল রোজা:
উপরের রোজাগুলোর বাইরে যেকোনো রোজা, যেটি অপছন্দনীয় বা নিষিদ্ধ নয়।
- মাকরূহ রোজা:
মাকরূহ রোজা দুটি প্রকারে বিভক্ত:
- মাকরূহে তানযীহী: যেমন কেবল আশুরার দিবসের রোজা রাখা, তার পূর্ববর্তী দিন (৯ মহররম) ছাড়া।
- মাকরূহে তাহরেমী: যেমন দুই ঈদের দিন এবং তাশরীকের দিনগুলোতে (১১, ১২, ১৩ জিলহজ) রোজা রাখা, শুধুমাত্র শুক্রবার বা শনিবার রোজা রাখা। তবে, যদি কোনো পূর্বনির্ধারিত রোজার দিন এসব দিনে পড়তে থাকে, তবে এটি মাকরূহ হবে না।
- সূর্যাস্তের পর কোনো ধরনের ইফতার ছাড়া একটানা রোজা রাখা, যাতে পরের দিনের রোজা আগের দিনের সঙ্গে মিলে যায়, তা মাকরূহ। সবসময় একাধিক দিন একটানা রোজা রাখা মাকরূহ।
এভাবে রোজা বিভিন্ন প্রকারে বিভক্ত, এবং ইসলামে এসবের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্বত্ব © ২০২৬ | www.millionarticles.com