নিজের প্রথম মেয়াদে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে তুমুল বিরোধে জড়িয়েছিলেন, তবে তার দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি সেই পথে হাঁটেননি। প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি একটি দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেন, যা ফলস্বরূপ গত শুক্রবার পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়।
সেই রাতে, ট্রাম্প পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, জেনারেল চার্লস ‘কিউ’ ব্রাউন জুনিয়রকে বরখাস্ত করেন এবং একই দিন পেন্টাগনের আরও ৫,৪০০ কর্মীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। এ পরিবর্তনগুলো এক রাতে পেন্টাগনের অস্থিরতাকে শান্ত করার চেষ্টা হতে পারে, যা ট্রাম্পকে প্রতিরক্ষা দপ্তরের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ দিতে সহায়তা করেছে।
এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর প্রধান কর্মকর্তা, অ্যাডমিরাল লিসা ফ্রানচেত্তিকেও চাকরিচ্যুত করা হয়। ট্রাম্পের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছিলেন, তিনি নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ পদে নতুন পরিবর্তন আনতে প্রার্থী খুঁজছেন। এসব পদে পরিবর্তন করার জন্য ট্রাম্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল যে, তিনি চাইতেন, এসব কর্মকর্তার শীর্ষ পদে থাকা উচিত তাঁর প্রতি অটুট আনুগত্য।
প্রথমবার ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প দ্রুত জ্যেষ্ঠ জেনারেলদের কাছে আস্থা রেখেছিলেন। তার শৈশবকাল থেকেই সামরিক বাহিনীর প্রতি একটি বিশেষ আগ্রহ ছিল এবং তিনি নিউইয়র্কে সামরিক কায়দায় একটি আবাসিক স্কুলে পড়াশোনা করেছিলেন। তাঁর প্রিয় জেনারেল, জর্জ প্যাটন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সফলভাবে আক্রমণ চালিয়েছিলেন।
২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর, ট্রাম্প তার প্রথম প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে চার তারকা জেনারেল, জেমস ম্যাটিসকে নিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু ট্রাম্পের সম্পর্ক একসময় এসব জেনারেলদের সঙ্গে তিক্ত হয়ে ওঠে, কারণ তারা অনেক সময় প্রেসিডেন্টের ইচ্ছা অনুসারে চলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। বিশেষত, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে জেনারেল ম্যাকমাস্টারের মতবিরোধ ছিল। ম্যাটিস এবং ম্যাকমাস্টার, দুইজনই, ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত ছিলেন না এবং তাদের ভূমিকা নিয়ে বেশ কিছু মতানৈক্য দেখা দেয়।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি ছিল একটি বড় বিতর্কের কারণ। বিশেষভাবে, ম্যাটিসের মত ছিল যে সিরিয়ায় আইএসআইএসকে পরাজিত করার পরও মার্কিন সেনাদের সেখানে থাকা উচিত, যাতে আইএসআইএস পুনরায় সংগঠিত হতে না পারে। তবে, ট্রাম্প ২০১৮ সালে টুইটারে সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন, যা ম্যাটিসকে পদত্যাগে বাধ্য করেছিল।
এবার ট্রাম্প তার প্রশাসন ও পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথম মেয়াদে তিনি ক্যাশ প্যাটেলকে পেন্টাগনে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন, এবং তাকে এবার FBI-এর পরিচালকও বানিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি যে ধরনের আনুগত্য প্রত্যাশা করেন, তা তার পদক্ষেপের মধ্যে স্পষ্ট।
শেষকথা, ট্রাম্পের সামরিক কর্মকর্তা ও পেন্টাগনের শীর্ষস্থানীয়দের প্রতি এই নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি যে দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেছেন, তাতে তাঁর প্রত্যাশা স্পষ্ট—অটুট আনুগত্য এবং প্রশাসনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ।