যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আগামীকাল রোববার দেশটিতে ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটক বন্ধ হয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছে কোম্পানিটি। গতকাল শুক্রবার রাতে ক বিবৃতিতে টিকটক জানিয়েছে, যদি বাইডেন প্রশাসন অ্যাপল ও গুগলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে ১৯ জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, কারণ গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট একটি আইন বহাল রেখেছে, যার মাধ্যমে চীনা কোম্পানি বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন টিকটক নিষিদ্ধ করার ুমকি দেয়া হয়েছিল। আইন অনুযায়ী, ১৯ জানুয়ারির মধ্যে টিকটকের মালিকানা বিক্রি না করলে অ্যাপটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। শুক্রবার রাতেই সুপ্রিম কোর্টের ৯ জন বিচারপতি সর্বসম্মতভাবে এই আইনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে, টিকটক এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার ১৭ কোটি ব্যবহারকারী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিতে যাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প টিকটক চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ট্রাম্প সোমবার শপথ নেবেন, কিন্তু তার শপথের আগেই রোববার থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে, যদি অ্যাপল, গুগল, অ্যালফাবেট ও ওরাকলের মতো কোম্পানিগুলো টিকটককে সেবা প্রদান করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হবে। টিকটক কোম্পানি জানিয়েছে, "যদি বাইডেন প্রশাসন গরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদানকারীদের আশ্বস্ত করতে পারে না, তবে ১৯ জানুয়ারি থেকে টিকটক বন্ধ হয়ে যাবে।"
এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানার চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে তাদের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
টিকটক এবং বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। ত বছর মার্কিন কংগ্রেসে একটি বিল পাস হয়, যার মাধ্যমে টিকটক নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরে প্রেসিডেন্ট বাইডেন সেই বিলটি স্বাক্ষর করেন, কিন্তু এখনও কিছু আইনপ্রণেতা চাইছেন টিকটক যুক্তরাষ্ট্রে চালু থাকুক।
টিকটক, বাইটড্যান্স এবং কিছু ব্যবহারকারী এই আইন চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই চ্যালেঞ্জ খারিজ করে দিয়েছে।