টাইফয়েড জ্বর: একটি সংক্রমণজনিত রোগের বিবরণ
টাইফয়েড জ্বর আমাদের দেশে সংক্রমণজনিত জ্বরের অন্যতম কারণ। এটি প্রধানত দুটি জীবাণুর কারণে হতে পারে: সালমোনেলা টাইফি, যা টাইফয়েড বা এন্টারিক ফিভার সৃষ্টি করে, এবং সালমোনেলা প্যারাটাইফি, যা প্যারাটাইফয়েড সৃষ্টি করে।
টাইফয়েডের জীবাণু সাধারণত দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। সালমোনেলা টাইফি ও সালমোনেলা প্যারাটাইফির সংক্রমণের লক্ষণ প্রায় একই। আক্রান্ত ব্যক্তি প্রথম সপ্তাহে জ্বর অনুভব করে, যা ক্রমাগত বাড়তে থাকে। এর পাশাপাশি পেটব্যথা, মাথাব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া হতে পারে এবং নাড়ির গতি কমে যেতে পারে।
দ্বিতীয় সপ্তাহে, কিছু রোগীর বুক ও পিঠে গোলাপি দানা দেখা দিতে পারে, যা চার-পাঁচ দিন স্থায়ী হয়। এই সময় প্লীহা বড় হতে পারে এবং অন্ত্রের দেয়ালে ক্ষত সৃষ্টি হয়, যা থেকে রক্তক্ষরণ ও অন্ত্রনালি ফুটো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। চিকিৎসা না হলে রোগী তৃতীয় সপ্তাহের পর নিস্তেজ হয়ে পড়তে পারে।
টাইফয়েড জ্বরের জটিলতাগুলোর মধ্যে রয়েছে:
চিকিৎসা না করা হলে, টাইফয়েড জ্বরে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ রোগীর মৃত্যু হতে পারে।
রক্ত কালচার করে জীবাণুর উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়। অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করার আগে রক্তের কালচার করা জরুরি। যারা টাইফয়েডের আগে অ্যান্টিবায়োটিক নিয়েছেন, তাদের জন্য মলমূত্র কালচার এবং হাড়ের মজ্জা কালচার দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহের পর করানো প্রয়োজন।
টাইফয়েডের চিকিৎসার মূল উপাদান হল সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক। এটি মৌখিক বা ইনজেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করার পরও জ্বর কমতে পাঁচ-ছয় দিন লাগতে পারে। পাশাপাশি প্যারাসিটামল, শরীর ভেজা তোয়ালে দিয়ে মুছে দেওয়া এবং প্রচুর তরল খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন খাবারও দেওয়া উচিত এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক নিতে হবে।
টাইফয়েড প্রতিরোধে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত:
টাইফয়েড জ্বরের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।